1. admin@aparadhatallasi.com : admin :
বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সাতকানিয়ায় ১৭ টাকা পাওনাকে কেন্দ্র করে ছু রিকাঘা তে যুবককে হ ত্যা রংপুর বিভাগের ১৯ উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত রানীশংকৈলে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহের সমাপনি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত ৫৩বছর বছর ধরে ঘাস বেচেই সংসার চলে ভূমিহীন অমলের ফুলবাড়ীতে ই‌রি-বোরো ধান সংগ্রহে উন্মুক্ত লটারি পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে ফার্মেসীতে ফেনসিডিল সেবনের সময় পুলিশের হাতে আটক দুই ফুলবাড়ীতে রেমালের প্রভাব: পাকা ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক তীব্র গরমে স্বস্তি দিচ্ছে তালের শাঁস ফুলবাড়ীতে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ উদ্বোধন মাদারীপুরে সমাজসেবার দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

সাভারে সাদা পোশাকে এসআই পরিচয়ে শ্রমিককে আটকে রেখে টাকা টাকা আদায়ের চেষ্টা

  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ৪৩৬ বার পঠিত

মো.মাইনুল ইসলাম, সাভার প্রতিনিধিঃ

সাভারে সাদা পোশাকে পুলিশ পরিচয়ে এক শ্রমিককে আটকে রেখে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাভার থানার এক এস আই ও তার সহযোগী কনষ্টবলের বিরুদ্ধে।

ঘটনাস্হলে এক সাংবাদিক জানতে চাইলে সেই সাংবাদিককে বেদম মারপিট করে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেস্টার করেন অভিযুক্তরা।

পুলিশের সাদা পোশাক ধারী সেই উপ-পরিদর্শক (এস আই) ও এক কনস্টেবলের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন ইংরেজি দৈনিক দ্যা নিউ ন্যাশন পত্রিকার সাভার প্রতিনিধি এস এম মনিরুল ইসলাম (৩২)।
ভুক্তভোগী ও প্রতক্ষদর্শী সুত্রে জানা যায় ঘটনার দিন ১৩ডিসেম্বর বুধবার রাত ১১ টার দিকে সাভার সদর ইউনিয়নের চাঁপাইন তালতলা এলাকায় লাঞ্ছিত ও মারধরের শিকার হন ওই সাংবাদিক। এ সময় তাকে দেড় ঘন্টা আটকে রেখে বিভিন্ন অবান্তর প্রশ্ন করাসহ ইয়াবা মামলা দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি দেন অভিযুক্ত পুলিশের ওই দুই সদস্য।
অভিযুক্তরা হলেন, সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) আল মামুন কবির, কনস্টেবল নাজমুল সহ অজ্ঞাত আরো দুইজন। অন্য দুইজনের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া না গেলেও তাদের মধ্যে একজন এস আই আল মামুন কবিরের সোর্স অন্যজন ব্যক্তিগত ড্রাইভার বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা চারজন একটি সাদা রংয়ের প্রাইভেট কার ঢাকা মেট্রো-গ ১৩-৭০৭১ নাম্বার প্লেট ধারি গাড়িতে সাদা পোশাকে চাঁপাইনের বিভিন্ন বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করছিল।
এদিকে পুলিশের হাতে মারধরের শিকার আহত সাংবাদিক মনিরুল ইসলামকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানান তার পরিবার ।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, সাভার সদর ইউনিয়নের চাঁপাইন তালতলা এলাকায় আমার বাসার সামনে একটি চায়ের দোকানে চা খাচ্ছিলাম। এ সময় প্রতিবেশী এক নারী কান্না করতে করতে রাস্তায় হামাগুড়ি করছিলেন আর বলছিলেন আমার স্বামীকে কয়েকজন ব্যক্তি সাদা পোশাকে ধরে আটকে রেখেছে। এ ঘটনা শোনার পর স্থানীয় দুইজন সহ আমি সেখানে হাজির হই। আমাদের দেখা মাত্রই কনস্টেবল নাজমুল আমাদের সাথে খারাপ আচরণ শুরু করেন।
নাজমুল তেরে এসে আমাদের বলেন তোরা এখানে কি করস.? এই মুহূর্তে যা! সবাই যখন আমরা চলে আসছিলাম নাজমুল আরো বেপরোয়া হয়ে আমাদের দ্রুত যা নাইলে গারামু বলতে থাকেন! আমি আমার পরিচয় দিয়ে এর কারণ জানতে চাইলে, নাজমুল আমার কলার ধরে বলেন, তোরা সাংবাদিকরা তো চোর আজকে তোরে আমি খাইছি বলেই এলোপাথাড়ি কিল ঘুষি চড় থাপ্পড় মারা শুরু করেন। এ সময় আল মামুন কবির এগিয়ে এসে আমার কোমরের বেল্ট ধরে আমাকে বলেন তুই ইয়াবার ব্যবসা করস, তুই ইয়াবা খাস, তোর মুখে ইয়াবার গন্ধ পাচ্ছি। এরপর আমাকে দেড় ঘন্টা আটকে রেখে মোবাইল কেড়ে নিয়ে আমাকে সার্চ করে আইডি কার্ড আনতে বলেন। আমি ভিজিটিং কার্ড বের করে দিলেও তারা আমার কথা শোনেনি। পরে আইডি কার্ড এনে তাকে দিয়েছি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, সাংবাদিক মনিরের সাথে আজ পুলিশ যেটা করলো তাহলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়.? তারা চারজন নাকি পুলিশ, তবে তারা সিভিলে এসেছে, তাদের পরিচয় গোপন করে বলছিলেন তারা এনজিও কর্মী। আমাদের প্রতিবেশী শ্রমিক সজলকে আটকে রেখে তার স্ত্রীকে টাকা আনতে বলেন এসআই আল মামুন কবির সহ তার সহযোগীরা। সজলরা গরীব মানুষ এবং নিরপরাধ আমরা সবাই জানি এবং সেটাই সাংবাদিক মনিরুল ইসলামকে জানাই। পরে তিনি কি কারণে সজলকে আটকে রাখা হয়েছে জানতে এগিয়ে আসেন। কিন্তু বাড়িতে যাওয়ার আগেই গলির মধ্যে পাহারারত পুলিশ কনস্টেবল নাজমুলসহ অন্য আরো দুইজন তারা এলোপাথারি ভাবে মনিরুল ইসলামকে কিল ঘুষি মারতে থাকেন আর বলেন তোর সাংবাদিকতা কত দিনের দেখিয়ে দিচ্ছি। ইয়াবা ব্যবসায়ী বলে তাকে এক পর্যায়ে থানায় নিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করা হয়। এ সময় আশ পাশ থেকে স্থানীয়রা এবং ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়া এক সাংবাদিক এসে তাকে উদ্ধার করে। এর আগে এভাবে দেড় ঘন্টা তার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালায় পুলিশ সদস্যরা। পরে অবশ্য ওই সাংবাদিকের সামনে তাদের ভুল স্বীকার করে সাংবাদিক মনিরুল ইসলামের কাছে এসআই আল মামুন কবির ও কনস্টেবল নাজমুল ক্ষমা চান।

সাদা পুলিশের হাতে আটক হওয়া শ্রমিক সজল জানান, আমি গরীব মানুষ, কর্ম করে খাই। চারজন ব্যক্তি আমার বাড়িতে প্রবেশ করে আমার মোবাইল কেড়ে নিয়ে আধা ঘন্টা আটকে রেখে পুরো বাড়ি সার্চ করে। আমার সাথে প্রতিবেশী অন্য ভাড়াটিয়ারা আমাকে আটকের কারণ জিজ্ঞেস করতে চাইলে তাদের লাথি মারতে মারতে বের করে দেন। পরে জানতে পারি তারা সাভার মডেল থানা থেকে এসেছে। আমি এসময় হতভম্ব হয়ে গেছিলাম। আমি বুঝতেও পারিনি যে কেন তাড়া আমাকে ধরতে এসেছে। জেনেছি, একজন তাদের আচরণ ও কর্মকান্ড ভিডিও ধারণ করে রেখেছে। এগুলো দেখলে মানুষ বুঝতে পারবে তারা কি করেছে।

ভুক্তভোগী মনির কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমাকে বললেই হতো তারা পুলিশ ‘ তা না করে আমাকে গালমন্দ করে লাঞ্ছিত করেছে। এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে মারধরের শিকার হলাম।’ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের শাস্তি দাবি করছি। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছেন, এসআই আল মামুন কবিরের বিরুদ্ধে সাংবাদিক পেটানোর অভিযোগ নতুন নয়। সাভার থানায় চাকরির আগে আশুলিয়া থানায় চাকুরী করেছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে আসামি ছেড়ে দেওয়ার মতো একাধিক অপকর্মের ঘটনা রয়েছে। এ সময় অবৈধ উপায়ে উপার্জিত অর্থে কোটি টাকার উপর দামে তার পরিবারের সদস্যদের নামে আশুলিয়ার ডিওএইচএস এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন আল মামুন কবির। তার অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে সাংবাদিক সমাজ সহ অনেকেরই । অনেক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাও নাকি তার পকেটে থাকে এমন গল্পও মানুষকে শোনান বিতর্কিত এস আই আল মামুন কবির।

এ বিষয়ে পুলিশের এক উর্ধতন কর্মকর্তা বলেন, সাংবাদিককে পিটানোর ঘটনাটি দু:খজনক, এ বিষয়ে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহণ করা হবে।

বার্তা প্রেরকঃ

মো.মাইনুল ইসলাম, সাভার ঢাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৩ দৈনিক অপরাধ তল্লাশি

Theme Customized By Shakil IT Park